বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
Logo ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ মুসা এখন ওমানে Logo চাকরির জন্য যেসব প্রয়োজনীয় দক্ষতায় পিছিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা Logo যানজট: দেরিতে কর্মস্থলে ঢুকলে বেতন কাটা, যানজটে নাকাল ঢাকায় এমন নিয়ম কতটা যুক্তিসঙ্গত Logo দেশে কি সবাই শাড়ী কামিজ পড়বে? এ জন্য আমাকে মারবে?-নরসিংদীতে আক্রান্ত তরুণীর প্রশ্ন স্টেশন মাষ্টারকে Logo ইফতারে মচমচে মিষ্টিকুমড়ার চপ Logo গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা, গোপন ছবি ছড়ানোর অভিযোগ Logo ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় পরিবারকে ভিটেছাড়া করার অভিযোগ Logo পদ্মা সেতু চালু হবে ৩০ জুন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব Logo পদ্মা সেতুতে খরচের চেয়ে বেশি টোল আদায় হবে: অর্থমন্ত্রী Logo আমাকে জামিন দেন, আমার স্ত্রী বাড়ির বাইরে যেতে পারে না, সবাই চোরের বউ বলে’ Logo রমজান মাসে অতি লাভ করবেন না : কাদের Logo শেখ হাসিনাকে গ্রীক প্রধানমন্ত্রীর ফোন : নেতৃত্বের প্রশংসা Logo ‘ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায় বিএনপি’: ওবায়দুল কাদের Logo রাশিয়ার খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ ৪ দেশে Logo শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৩১ শতাংশ আত্মহত্যা দ্বিগুণের বেশি Logo স্বামীর ঘরেই ধর্ষণের শিকার নববধূ! শ্বশুর গ্রেপ্তার Logo মামা-মামির পরকীয়া; দেখে ফেলায় আলিফের চোখ খুঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা! Logo সয়াবিন তেলের দাম কমল Logo বাংলাদেশে ঢুকেই যে ভুলটি করে বসেন সানি লিওনি Logo লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়া জাহাজের চালক-স্টাফ সবাই আটক Logo উচিত শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেব : ইমরান খান Logo আমরা চাই সব দল নির্বাচনে আসুক: সিইসি Logo শত শত লোকের সামনে তরুণীকে জুতাপেটা ইউপি সদস্যের Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ মারা গেছেন Logo যে শর্তে মেয়েদের স্কুল খুলে দিচ্ছে তালেবান Logo নিজেদের কিশোরী মেয়ে, স্ত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা Logo ফরিদপুর শহরের পতিতালয় | যৌন পল্লী পরিচিতি Logo দেহ ব্যবসার ঠিকানা কোথায় হয় দেহ ব্যবসা জেনে নিন Logo সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব নাকচ Logo লভিভ সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রাউন্ডে বিমান হামলা হয়েছে

শিমু হত্যা : গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাখাওয়াত

জনপ্রিয় খবর প্রতিনিধি : / ৬২ বার পঠিত
সময়: মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ২:০১ পূর্বাহ্ণ

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু ও তাঁর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম ১৬ জানুয়ারি যখন ঝগড়া করছিলেন, তখন ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন এস এম ওয়াই আবদুল্লাহ ফরহাদ। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে টাকা চাইতে বন্ধু শাখাওয়াতের বাসায় যান ফরহাদ। তাঁর উপস্থিতিতেই ওই দম্পতির ঝগড়া শুরু হয়। বন্ধুর ডাকে একপর্যায়ে শিমুর গলা টিপে ধরেন ফরহাদ। এরপর শিমু মাটিতে পড়ে গেলে গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাখাওয়াত। একপর্যায়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, শিমু মারা গেছেন।

গত ২০ জানুয়ারি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শিমুর স্বামী শাখাওয়াত। অপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানার কাছে জবানবন্দি দেন ফরহাদ। এই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন দুজনই। এই দুজনই স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে লাশ গুম করা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শাখাওয়াতকে সহযোগিতা করেন ফরহাদ। গ্রেপ্তার এড়াতে এ দুজন নানা ফন্দিও আঁটেন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। এই মামলার তদন্ত করছে কেরানীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দীন কবিরের নেতৃত্বে একটি দল। এদিকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) হুমায়ুন কবির কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দীন কবির ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। হুমায়ুন কবির বলেন, টাকা চাইতে শাখাওয়াতের গ্রিন রোডের বাসায় যান ফরহাদ। তাঁর উপস্থিতিতেই শাখাওয়াত ও রাইমা ঝগড়ায় জড়ান।

সুখের সংসারে অশান্তি

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উদ্ধৃত করে তদন্তে যুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জবানবন্দিতে শাখাওয়াত বলেছেন, ভালোবেসে তিনি শিমুকে বিয়ে করেন। দুই সন্তান নিয়ে তাঁদের সুখের সংসার। স্ত্রী তাঁর সম্মতি নিয়েই অভিনয়ে যুক্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি চ্যানেলে চাকরি নিয়েছিলেন শিমু। ইদানীং স্ত্রীকে সন্দেহ করছিলেন। সে থেকেই মনোমালিন্যের শুরু। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাখাওয়াত বলেন, ১৬ জানুয়ারি সকালে ফরহাদ তাঁর গ্রিন রোডের বাসায় আসেন। শিমু দরজা খুলে দেন। ড্রয়িংরুমে ফরহাদকে বসতে বলে তাঁকে (শাখাওয়াত) ডেকে দেন শিমু। শিমু এ সময় মুঠোফোনে কিছু একটা করছিলেন। শাখাওয়াত হঠাৎ বলেন, ‌‌‌‘তুমি (শিমু) আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে পারতে, আমরা চা খাব কি না। জিজ্ঞেস না করে তুমি মোবাইলে কী করছ?’ অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম (শিমু) হত্যায় গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম (ছবিতে বাঁয়ে) এবং তাঁর বন্ধু এস এম ওয়াই আবদুল্লাহ ফরহাদ অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম (শিমু) হত্যায় গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম (ছবিতে বাঁয়ে) এবং তাঁর বন্ধু এস এম ওয়াই আবদুল্লাহ ফরহাদ ছবি: সংগৃহীত একপর্যায়ে শিমুর হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেন শাখাওয়াত। এ থেকেই ঝগড়ার শুরু। কথা-কাটাকাটি থেকে একপর্যায়ে দুজনে ধস্তাধস্তি হয়। চিৎকার শুনে ফরহাদ তাঁদের শোয়ার ঘরে ঢোকেন। এ সময় শিমুর গলা চেপে ধরেন শাখাওয়াত। ফলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন শিমু। অকথ্য ভাষায় একে অন্যকে গালাগালি করতে থাকেন তাঁরা। এরপর শিমুর গলা টিপে ধরতে ফরহাদকে ডাকেন শাখাওয়াত। ফরহাদ শিমুর গলা টিপে ধরেন। ধস্তাধস্তিতে শিমু মাটিতে পড়ে যান। ফরহাদ আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, শিমু মাটিতে পড়ে গেলে শাখাওয়াত তাঁর গলার ওপর পা দিয়ে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পর তাঁরা আঁচ করেন, শিমু মারা গেছেন। এরপর শিমুর হাত ধরেন শাখাওয়াত। ফরহাদকেও হাতের নাড়ি ধরতে বলেন তিনি। নাকের নিচে হাত দিয়ে বুঝতে পারেন, শিমুর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ। এর পর থেকেই শুরু হয় লাশ লুকানোর চেষ্টা।

লাশ গুমের যত চেষ্টা

স্বীকারোক্তিতে শাখাওয়াত বলেছেন, মারা গেছেন নিশ্চিত হওয়ার পর শিমুর লাশ চটের বস্তায় ভরেন তিনি ও ফরহাদ। শাখাওয়াত নিজেই একটি প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে বস্তা সেলাই করেন। লাশ গুম করতে কী কী করেছেন, তার বিস্তারিত আদালতকে বলেছেন এই দুই বন্ধু। ফরহাদের জবানবন্দি উদ্ধৃত করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ পরই বাসায় গৃহকর্মী আসেন। তাঁকে শাখাওয়াত বলেন, ‌‘আপনি চলে যান। শিমু বাজারে গেছে। আধা ঘণ্টা পর আসেন।’ সিঁড়ি দিয়ে শিমুর লাশভর্তি বস্তা নামানোর সময় হঠাৎ এই দুই বন্ধু মনে হয়, সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন। সেটি বিচ্ছিন্ন করে আবার তাঁরা নামতে শুরু করেন। এ সময় ভবনের নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন দুজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের একজন জামাল। শাখাওয়াত তাঁকে ডেকে ইলেকট্রিশিয়ান খুঁজতে বলেন। আর অপর নিরাপত্তারক্ষী আরিফকে সিগারেট কিনতে পাঠান তিনি। কিছুক্ষণ পর জামাল ওপরে উঠে এলে আরেক রক্ষী আরিফকে খুঁজে আনতে বলেন শাখাওয়াত। কৌশলে দুজনকে সরিয়ে দিয়ে শিমুর মরদেহ গাড়িতে তোলেন দুই বন্ধু। ফরহাদ বলেন, এরপর শাখাওয়াত তাঁকে শিমুর মুঠোফোন নিয়ে গ্রিন রোডে মুঠোফোনের যে টাওয়ার, তার সীমার বাইরে গিয়ে বন্ধ করে আসতে বলেন। যেন মনে হয়, শিমু বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। সেই কথামতো ফরহাদ আজিমপুর গিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে আবারও গ্রিন রোডে আসেন। লাশ গুম করতে প্রথমে দুই বন্ধু মিরপুরের দিকে যান। কিন্তু মিরপুরের নানা জায়গা ঘুরে কোথাও তাঁরা লাশটি ফেলতে পারেননি। দুপুরের পর বাসায় ফিরে আসেন, ঘরে না ঢুকে অপেক্ষা করতে থাকেন নিচেই। তখনো শিমুর মরদেহ গাড়িতে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাখাওয়াতকে তাঁর মেয়ে ফোন করে। সে জানায়, মায়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কিছুক্ষণ বাদে শিমুর বোনও ফোন করেন। তিনিও জানান, শিমুর ফোন বন্ধ। পরে ধানমন্ডির ভেতর দিয়ে মোহাম্মদপুরের বছিলা হয়ে নির্জন জায়গা দেখে দুই বন্ধু শিমুর মরদেহ ফেলে দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফরহাদ বলেন, লাশ ফেলে ঢাকায় ফেরার পথে প্রথমে শিমুর ভ্যানিটি ব্যাগ ছুড়ে ফেলেন তাঁরা। আরও পরে মুঠোফোন পানিতে ফেলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় শিমু ও শাখাওয়াত দম্পতির ছেলে-মেয়ে বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দীন কবির প্রথম আলোকে বলেন, রাইমার মেয়ে অনেক রাত অবধি পড়ালেখা করে ঘুমিয়েছিল। বাবা-মা ঝগড়া করলেও মাথা ঘামায়নি, ভেবেছিল আর সব দিনের মতো আবার মিটমাটও হয়ে যাবে। শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন জানিয়েছেন, এই দুই সন্তান এখন তাঁদের খালার সঙ্গে আছে। আর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি দুজনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮  

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮  

মুজিব শতবর্ষ

সুরক্ষা অনলাই পোটার্ল

বাংলা পত্রিকাসমূহ

ইতিহাসের এই দিনে

বাংলাদেশের ৩৫০ ‍জন এমপিদের তালিকা

বিজ্ঞাপন

Web Deveoped By IT DOMAIN HOST