শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
Logo মা হওয়ার ইচ্ছা প্রভা’র, পাচ্ছে না সন্তানের বাবা! Logo নৌকার ধাক্কায় ভেঙে পড়ল ২২ বছরের পূুরানো সেতু! Logo করোনায় চাকরি হারিয়ে সফল উদ্যোক্তা জবির সাবেক শিক্ষার্থী! Logo ফ্লাইওভার থেকে বাইক নিয়ে ছিটকে পড়লেন যুবক, মর্মান্তিক পরিণতি Logo খালেদাকে বিদেশে নিতে অপেক্ষা সবুজ সংকেতের Logo মাথায় গুলি লেগে র‌্যাব সদস্যের মৃত্যু Logo ২০২৩ সাল থেকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা থাকবে না Logo নবম-দশমে গ্রুপ বিভাজন থাকবে না : শিক্ষামন্ত্রী Logo নতুন ঘরে দুই সন্তানের মা মাহিয়া মাহি Logo মাহির দ্বিতীয় স্বামী রাকিবকে আগে থেকেই চিনতেন প্রথম স্বামী Logo ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে সাংবাদিক, বিটিআরসিসহ সবারই সজাগ থাকা দরকার: হাইকোর্ট Logo কল্যাণপুরে হবে হাতিরঝিলের মতো দৃষ্টিনন্দন জলাধার: মেয়র আতিক Logo বুধবার থেকে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন Logo সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পরীমনি! Logo পুত্রসন্তানের বাবা কে, জানালেন নুসরাত Logo যে উড়াল সড়কের নাম হবে “আবদুল আলীমে”র নামে Logo আজ জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের শুভ জন্মদিন Logo চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষ Logo ইরানের কাছে ক্ষমা চাইল ব্রিটেন-রাশিয়া Logo যুক্তরাষ্ট্রে বন্যা, বিদ্যুৎহীন ৫ লাখ গ্রাহক Logo স্কুল-কলেজ খুলছে ১২ সেপ্টেম্বর, কলেজ জীবনের স্বাদ তারা কি পাবে? Logo যুক্তরাষ্ট্রের একদিকে দাহ অপরদিকে বরষা Logo না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু সহবাস ছাড়া থাকতে পারি না : সামান্থা Logo পরীমণির পক্ষে মুখ খুললেন শাকিব খান Logo ৯৭ শতাংশ মেয়েরা বয়সে ছোট ছেলেকে বিয়ে করতে চায়! Logo আবারো প্রেমে পড়লেন শ্রাবন্তী, জানা গেল প্রেমিকের পরিচয় Logo ‘আমাদের পরিমণিকে ফিরিয়ে দিন’ Logo পদ্মা সেতুতে বারবার ধাক্কায় ‘সরিষার মধ্যে ভূত’ খুঁজছেন সেতুমন্ত্রী Logo হেলেনার সহযোগী হাজেরা ও নূরী গ্রেফতার Logo ৫ লাখের বিনিময়ে ব্যুরো চিফ করার প্রস্তাব হেলেনার

তিস্তা নিয়ে মমতার অবস্থান চিরকাল একই থাকবে ভাবার কারণ নেই

জনপ্রিয় খবর প্রতিনিধি : / ২৬ বার পঠিত
সময়: শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আলতাফ পারভেজ। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক গবেষক। লিখছেন-গবেষণা করছেন আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন ও এর ফলাফল নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন জাগো নিউজের।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির নিজের নেয়া চ্যালেঞ্জের কারণেই ফলাফল তার পক্ষে এসেছে বলে মত দেন আলতাফ পারভেজ। তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুতে মমতার বিরোধী অবস্থান প্রশ্নে বলেছেন, তিস্তার পানি নিয়ে মমতার অবস্থান চিরকাল একই থাকবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু। বাংলাদেশের বাম রাজনীতির চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতি অনেক এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের বামদের ব্যর্থতা গত দশ বছরের। পশ্চিমবঙ্গের বামদের সাংগঠনিক-নেতৃত্ব দুর্বল হলেও নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক ছিল। সিপিএম সাংগঠনিক পরিবর্তন আনলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করি।

  • পশ্চিমবঙ্গে তিন দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল ব্রামফ্রন্ট। পরাজয় ঘটছে এক দশক ধরে। এবার আরও শোচনীয় পরাজয়? কেমন দেখলেন বামফ্রন্টের নির্বাচন?
    আলতাফ পারভেজ: বামফ্রন্টের অনেক ভুল রয়েছে। রাজনীতি একটি গাণিতিক বিষয় এবং রসায়নশাস্ত্রের বিষয়। এই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার ব্যাপার আছে। রাজনীতিতে ‘দাঁড়ি’ বলে কিছু নেই। এই পরাজয়কে ‘কমা’ হিসেবে দেখলেই বামফ্রন্ট ভালো করবে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বামফ্রন্টের আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি।কেরালায় বামফ্রন্ট গতবারের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তামিলনাড়ুতেও বামপন্থিরা অনেক ভালো করেছে। গত ক’মাস আগে বিহারের নির্বাচনেও বামপন্থি দলগুলো ভালো করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিহার, কেরালা, তামিলনাড়ুতে ভালো করলেও পশ্চিমবঙ্গে ভালো করছে না কেন?
  • আপনার বিশ্লেষণ কী?
    যে ভাবনা থেকে আব্বাস সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এসেছেন, তার সম্ভাবনা কিন্তু এবারের রাজনীতি দিয়ে মূল্যায়ন করলে হবে না। তার ভোট ব্যাংক মুসলিমদের। কিন্তু সম্প্রদায়গত বিশেষ বিবেচনায় মমতা ব্যানার্জিকে তারা ভোট দিয়েছেন। মানে গণভোটের হিসাবে মুসলমানরা একটি পক্ষকে বেছে নিয়েছেন। তার মানে এই নয় যে, তারা আব্বাস সিদ্দিকীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আলতাফ পারভেজ: মূলত, পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থিদের নেতৃত্বের ওপর মানুষের আস্থা নেই। সংকট এখানেই। নেতৃত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি বামপন্থিদের ভাবনা-চিন্তায়ও ব্যাপক পরিবর্তন দরকার।
    পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থিরা পুরো রাজনীতিকে দেখে থাকেন শ্রেণীর জায়গা থেকে। মালিক-শ্রমিকের দ্বান্দ্বিক নামের একটি বাইনারি জায়গাতে আটকে ছিলেন তারা। সমাজের প্রতিটি মানুষ শুধু শ্রমিক বা মালিক ক্যাটাগরিতেই থাকে না। পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গোর্খারা আছেন, মতুয়ারা আছেন। মুসলমান-দলিতরা আছেন। আদিবাসীও আছেন। এদের চিন্তা-ভাবনাকে আমলে না নিয়ে শুধু মালিক-শ্রমিকের শ্রেণীর জায়গা থেকে রাজনীতি সাজালে আস্থার সংকট হবে। সেখানকার রাজনীতিতে যে বহুত্ববাদী দৃশ্য, তা বামফ্রন্ট বুঝতে পারেনি। বামফ্রন্টের আরেকটি মৌলিক সমস্যা হচ্ছে, তারা মনে করে জনগণের ভুলের কারণে তারা বিজয়ী হতে পারছে না। তারা মনে করে, এতে তাদের কোনো ভুল নেই, তারা ঠিক আছে। জনগণ নিজেদের ভুলে তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে। ভুল বুঝতে পেরে একদিন বামফ্রন্টে ফিরে আসবে। এটি তাদের বদ্ধমূল ধারণা। অথচ জনগণ তাদের এই ধারণাকে সচেতনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বামফ্রন্টের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে, যা হচ্ছে, তা তাদের ভুল। জনগণের ভুল নয়।মমতা সবসময় বিজেপির বিরোধিতা করে রাজনীতি করেননি। বলতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে মমতার ভূমিকা আছে
  • একই ভুলের জায়গা থেকে বাংলাদেশের বামদলগুলোরও মূল্যায়ন করা যায় কি-না?
    আলতাফ পারভেজ: না। আমি তা মনে করি না। বাংলাদেশের বাম রাজনীতির চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতি অনেক এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের বামদের ব্যর্থতা গত দশ বছরের। পশ্চিমবঙ্গের বামদের সাংগঠনিক-নেতৃত্ব দুর্বল হলেও নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক ছিল। সিপিএম সাংগঠনিক পরিবর্তন আনলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করি। এবারে তারা বেশ কয়েকজন তরুণ প্রার্থী দিয়েছিল। এটি একটি ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করি। তবে অনেক দেরি করে ফেলেছে। এই ধারায় তাদের নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তরুণদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সংযোগ ঘটাতে তরুণদেরই নেতৃত্বে আনতে হবে।
  • বামফ্রন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করলেন। কংগ্রেসের রাজনীতি নিয়ে কী বলবেন?
    আলতাফ পারভেজ: পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের রাজনীতির আমি অন্তত কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না। ভারতের অন্য রাজ্যেও তাদের অবস্থান ভালো নয়। আসামে এবারের নির্বাচনে তাদের ভালো করার খুবই সুবর্ণ সুযোগ ছিল। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের প্রতিবেশী, প্রতিবেশী কখনো পাল্টানো যায় না। দুই দেশকেই বুঝতে হবে। বাংলাদেশকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। তিস্তার পানি নিয়ে মমতার অবস্থান চিরকাল একই থাকবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই ।

  • ভালো করতে পারল না কেন? আলতাফ পারভেজ: কংগ্রেসের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়ার মানুষগুলো একই পরিবারের। কংগ্রেস পরিবারতন্ত্র থেকে বের হতে পারছে না। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে পরিবারতন্ত্র আর চলবে না। কংগ্রেসকর্মী, নেতৃত্বের এটা বোঝার সময় এসেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বামফ্রন্ট এবার আরও খারাপ করেছে। চতুর্থ স্থানের একটি দলের সঙ্গে সিপিএম যুক্ত হওয়ার কোনো মানে হয় না।আসাম-বিহারে জোট করে কংগ্রেস তার ঐতিহ্যকে সামনে এনে অধিক আসন দাবি করে। অথচ, তারা বেশি আসনে জিততে পারে না। এবারও বামফ্রেন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের দরকষাকষি হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের আসনগুলোয় ভোট কোথায়? বিহারেও তারা অনেক আসন নিয়ে হেরে গেছে। নির্বাচনী প্রচারণাই চালায়নি।

  • – সিপিএম-কংগ্রেস জোটে ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফ যুক্ত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় এলো। ফলাফল ভালো হয়নি। আপনার মূল্যায়ন কী?

আলতাফ পারভেজ: যে ভাবনা থেকে আব্বাস সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এসেছেন, তার সম্ভাবনা কিন্তু এবারের রাজনীতি দিয়ে মূল্যায়ন করলে হবে না। তার ভোট ব্যাংক মুসলিমদের। কিন্তু সম্প্রদায়গত বিশেষ বিবেচনায় মমতা ব্যানার্জিকে তারা ভোট দিয়েছেন। মানে গণভোটের হিসাবে মুসলমানরা একটি পক্ষকে বেছে নিয়েছেন। তার মানে এই নয় যে, তারা আব্বাস সিদ্দিকীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবারের ফল কী, তা দিয়ে যদি আব্বাস সিদ্দিকীকে বিচার করেন, তাহলে ভুল হবে। আব্বাস সিদ্দিকী নিজেও এমন বিচার করলে ভুল করবেন।

আব্বাস সিদ্দিকী যে বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন, যদি তিনি দীর্ঘমেয়াদে পথ হাঁটতে রাজি থাকেন, তাহলে অবশ্যই ভালো করবেন।

– এমন ভরসা কেন পাচ্ছেন?
আলতাফ পারভেজ: তৃণমূল এবার দুশ’ আসনের বেশি পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু প্রথম পাঁচ বছর রাজনীতিতে ভালো করেনি। কিন্তু মমতার লড়াকু মনোভাব ছিল। ধৈর্য ধরে রাজনীতি করেছেন। আব্বাস সিদ্দিকীকেও এভাবে লেগে থাকতে হবে। এবার ভালো করেননি বলেই হাল ছেড়ে দিলে হবে না। আব্বাস সিদ্দিকীর প্রতিপক্ষও যদি তাকে সাময়িক বিবেচনায় মূল্যায়ন করে, তাহলে ভুল হবে।

jagonews24পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি

– মমতা লড়ছেন ধর্মীয় সংগঠন বিজেপির সঙ্গে। এনআরসি, কাশ্মীর, বাবরি মসজিদ ইস্যু সামনে এনে মমতা ব্যানার্জি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় ধারণ করতে চাইছেন। কিন্তু আব্বাস সিদ্দিকী ধর্মের ওপর ভর করেই রাজনীতি করছেন…

আলতাফ পারভেজ: এখানে আপনার একটি কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি। মমতা সবসময় বিজেপির বিরোধিতা করে রাজনীতি করেননি। বলতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে মমতার ভূমিকা আছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নতুন সমীকরণের কারণে বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এটি মমতার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। আমি আগেই বলেছি, মমতা রাজনীতিকে গণিতবিদ্যা আকারে দেখেন। তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করেন এবং তার জন্য এটিই উপযুক্ত। মমতা ভবিষ্যতেও বিজেপিবিরোধী অবস্থানে থাকবেন, তাতে আমার সন্দেহ আছে। মমতার রাজনীতির ধরন থেকে বলতে হয়, যে কোনো সময় তার রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। তিনি নির্বাচনে জেতার জন্য রণকৌশল ঠিক করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

আব্বাস সিদ্দিকী আদর্শের কথা বলে রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি নিজে মুসলমান। কিন্তু সেক্যুলার রাজনীতি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার রাজনীতিতে দলিতরা মনোনয়ন পাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে মাঠে নামেননি। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি লম্বা পথ পাড়ি দিতে রাজি কি-না। পশ্চিমবঙ্গে এমন রাজনীতির সম্ভাবনা আছে। সুযোগ আছে। গোটা ভারতবর্ষেই সুযোগ আছে। ভারতে যে বহুত্ববাদী রাজনীতির কথা হয়, তা মূলত এটিই। একটি ভোটের মধ্য দিয়েই কারও রাজনীতি শেষ হয়ে যায় না।

jagonews24কংগ্রেস ও বামদের সঙ্গে মিলে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফের গঠিত সংযুক্ত মোর্চার ব্রিগেড সমাবেশ। যদিও নির্বাচনে এই জোটের ভরাডুবি হয়েছে

– নাগরিকত্ব বিল নিয়ে হিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি। মমতা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এই বিলের বিরুদ্ধে। এখন কী ঘটতে পারে?

আলতাফ পারভেজ: এনআরসির বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে সেখানে। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি নিয়ে যে ইস্যু, আসামেও একই ইস্যু। আসামে বিজেপি জিতলেও এনআরসি করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ অসমীয়রা এর বিপক্ষে। ভোটে তারা বিজেপিকে ঠেকাতে পারেনি। কিন্তু এনআরসি বাস্তবায়ন করতে গেলে মাঠ গরম করার ক্ষমতা রাখে তারা। পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি করতে গিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ মমতা বড় ব্যবধানে জিতেছেন। জাগো নিউজ: মমতা ব্যানার্জি নিজে হেরে গেছেন নিজের আসন নন্দীগ্রামে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বিতর্ক আছে…

jagonews24শুষ্ক মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার তিস্তার পানি আটকে রাখে। সে কারণে নদীটির বাংলাদেশ অংশের কোথাও সামান্য পানি আবার কোথাও বিস্তীর্ণ বালুচর দেখা যায়

আলতাফ পারভেজ: জনগণের রায়ই সব কিছু। মমতার দলকেই তো বিজয়ী করেছে জনগণ। তার মানে তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ন্যায্যতা তুলে ধরে এই রায়। কারিগরি বিষয়গুলো এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়।

– মমতার কারণে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে বলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা বলে থাকেন। পানির আলোচনা আরও কঠিন হল কি-না মমতার বিজয়ে?

আলতাফ পারভেজ: রাজনীতিতে নিরাশার কোনো জায়গা নেই। এবার মনে করা হচ্ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। মমতা পুরো ব্যাপারটাই পাল্টে দিলেন। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের প্রতিবেশী, প্রতিবেশী কখনো পাল্টানো যায় না। দুই দেশকেই বুঝতে হবে। বাংলাদেশকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। তিস্তার পানি নিয়ে মমতার অবস্থান চিরকাল একই থাকবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। অনন্তকাল ধরে যত ইস্যু আসবে, তা নিয়ে রাজ্যগুলোর মানুষদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অতীতকে অতিক্রম করে যেতে হবে। এমন হলেই তিস্তার পানি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

মুজিব শতবর্ষ

সুরক্ষা অনলাই পোটার্ল

বাংলা পত্রিকাসমূহ

ইতিহাসের এই দিনে

বাংলাদেশের ৩৫০ ‍জন এমপিদের তালিকা

বিজ্ঞাপন

Web Deveoped By IT DOMAIN HOST