শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
Logo এক হাজার কোটি টাকা দেনার বিপরীতে ইভ্যালি’র ব্যাংকে মাত্র ৩০ লাখ টাকা Logo ছেলে বাবার চেয়ে ২ বছরের বড়, এলাকায় তোলপাড়! Logo খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে এ সপ্তাহে, সম্মতি প্রধানমন্ত্রীর Logo নুসরাতকে ‘নারীবাদী বিপ্লবী’ ভেবেছিলেন; দ্রুতই ভুল ভাঙল তসলিমার Logo কবুতর: বাংলাদেশে বাড়ছে দামী জাতের পালন, হচ্ছে কবুতরের রেসিং, রয়েছে কবুতরের খামার Logo চীনা নভোচারীরা তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ মহাকাশ মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন Logo পরীমনি: আদালতে হাজিরা দেবার পর হাতের নতুন বার্তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা Logo হাইটেক পার্কে কী হচ্ছে দেখতে যাবেন পরিকল্পনামন্ত্রী Logo কমেছে করোনার রোগী, স্বস্তিতে চিকিৎসক-নার্সরা । রোগীর চাপ নেই। পড়ে আছে ফাঁকা শয্যা। আজ সকালে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার এইচডিইউতে Logo দিনাজপুরে অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪৫ Logo চট্টগ্রামে দ্বিতীয় কারাগারের জন্য জমি পাওয়া যাচ্ছে না Logo খেলা হবে ২০ তারিখ নৌকা মার্কায় ভোট দিন। Logo নাইক্ষ্যংছড়িতে দেশীয় চোলাই মদ সহ আটক-২ Logo গাজীপুর মহা নগরে আট লক্ষ টাকা মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন কারী কে গ্রেপ্তার। Logo মা হওয়ার ইচ্ছা প্রভা’র, পাচ্ছে না সন্তানের বাবা! Logo নৌকার ধাক্কায় ভেঙে পড়ল ২২ বছরের পূুরানো সেতু! Logo করোনায় চাকরি হারিয়ে সফল উদ্যোক্তা জবির সাবেক শিক্ষার্থী! Logo ফ্লাইওভার থেকে বাইক নিয়ে ছিটকে পড়লেন যুবক, মর্মান্তিক পরিণতি Logo খালেদাকে বিদেশে নিতে অপেক্ষা সবুজ সংকেতের Logo মাথায় গুলি লেগে র‌্যাব সদস্যের মৃত্যু Logo ২০২৩ সাল থেকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা থাকবে না Logo নবম-দশমে গ্রুপ বিভাজন থাকবে না : শিক্ষামন্ত্রী Logo নতুন ঘরে দুই সন্তানের মা মাহিয়া মাহি Logo মাহির দ্বিতীয় স্বামী রাকিবকে আগে থেকেই চিনতেন প্রথম স্বামী Logo ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে সাংবাদিক, বিটিআরসিসহ সবারই সজাগ থাকা দরকার: হাইকোর্ট Logo কল্যাণপুরে হবে হাতিরঝিলের মতো দৃষ্টিনন্দন জলাধার: মেয়র আতিক Logo বুধবার থেকে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন Logo সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় পরীমনি! Logo পুত্রসন্তানের বাবা কে, জানালেন নুসরাত Logo যে উড়াল সড়কের নাম হবে “আবদুল আলীমে”র নামে

মিতুর ‘খুনি’ ধরা পড়ল, তনু, ত্বকী, সাগর–রুনির খুনিরা কেন নয়?

জনপ্রিয় খবর প্রতিনিধি : / ১৯ বার পঠিত
সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি অপরাধ ঢাকতে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার অনেক অপরাধের আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঘরে স্ত্রী থাকতে অন্য এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া অপরাধ নয়। অপরাধ হলো সেই সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে বা যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে ভাড়াটে লোককে দিয়ে স্ত্রীকে খুন করানো। অপরাধ হলো, স্ত্রীকে খুন করানোর জন্য ভাড়াটে খুনিকে তিন লাখ টাকা দেওয়া। অপরাধ হলো নিজে স্ত্রীকে খুন করিয়ে সেই মামলায় বাদী হওয়া।

বাদী মানে বিচারপ্রার্থী। আর আসামি মানে অভিযুক্ত। একই ব্যক্তি দুই ভূমিকায় থাকতে পারেন না। অথচ বাবুল আক্তার পাঁচ বছর ধরে সেই অভিনয় করে গেছেন। শেষ রক্ষা হয়নি। এই মামলায় পুলিশ প্রমাণ করেছে, তারা অপরাধী পুলিশকেও ছাড় দেয়নি। তাঁর পদপদবি বিচার করেনি।

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামে সন্তানকে স্কুলে দিতে গিয়ে ঘাতকের গুলি ও ছুরিতে খুন হন মাহুমদা খাতুন মিতু। তখন স্বামী বাবুল আক্তার নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, তিনি চট্টগ্রামে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়েছেন। অনেক জঙ্গিকে পাকড়াও করেছেন। এই আক্রোশ থেকে জঙ্গিরা তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে থাকতে পারে। এর আগে জঙ্গিরা তাঁর ওপরও হামলা করেছিল।

সংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি

সংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি
ফাইল ছবি

মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় এসে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। দেখাতে চেষ্টা করেছেন যে স্ত্রীর বিয়োগব্যথায় তিনিও শোকাতুর। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে আসছিল, যাতে তিনি সন্দেহমুক্ত ছিলেন না। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিতু যেখানে খুন হন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা। এই মুসা ছিলেন বাবুল আক্তারের সোর্স। পুলিশ সন্দেহভাজন অপরাধী ধরতে সোর্স ব্যবহার করে। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা থাকে। অথচ বাবুল আক্তার দেখাতে চেয়েছেন, তিনি মুসা নামের কাউকে চেনেনই না। এতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে তিনি পুলিশের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। তখন পুলিশ বিভাগ থেকে বলা হয়, হয় চাকরি ছাড়তে হবে, না হয় বরখাস্ত করা হবে। বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিলেন। একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তাঁকে কেন চাকরি ছাড়তে হলো? এই প্রশ্ন ওঠে। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন, যিনি একসময় পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন, কয়েক মাস পর সাংবাদিকদের তাঁর সন্দেহের কথা জানান।

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
ফাইল ছবি

এরপর অনেক বছর চলে গেছে। বাবুল আক্তার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে আলাদা বাসায় ওঠেন। একপর্যায়ে নানা-নানির সঙ্গে সন্তানদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। মা-হারা সন্তানেরা নানা-নানির সান্নিধ্য চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। বাবুল আক্তারকে সন্দেহের এটাও একটা কারণ।

ইতিমধ্যে কয়েক দফা তদন্ত কর্মকর্তা বদল হন। মামলার তদন্ত এগোয় না। একপর্যায়ে তদন্তভার এসে পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। তারা একটি আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়।
প্রথম আলোয় শেখ সাবিহা আলমের প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি, হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর গত বছরের জানুয়ারিতে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এর ১৪ মাস পর বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হলো। পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা জানতে পারেন, বাবুল আক্তারের ব্যবসায়িক অংশীদার সাইফুল হকের কাছ থেকে লাভের তিন লাখ টাকা চেয়ে নিয়েছিলেন বাবুল। ওই টাকা তিনি নড়াইলের গাজী আল মামুনের কাছে পাঠান। মামুন সেই টাকা এই মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, ওয়াসিমসহ অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেন। পাঁচ বছর আগের ওই লেনদেনের তথ্য পিবিআই বিকাশ থেকে সংগ্রহ করে।

মিতু হত্যা মামলায় বাবুলসহ আট আসামির দুজন কারাগারে। বুধবার রাতেই মামলার আরেক আসামি সাইদুল ইসলাম শিকদার ওরফে সাকুকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। সাকুর ভাই কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা এই হত্যার ২ নম্বর আসামি।
পুলিশ বলছে মুসা পলাতক। অথচ মুসার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, মিতু হত্যার পরই পুলিশ তাঁকে হাতকড়া লাগিয়ে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তাহলে কি বাবুল আক্তারই গ্রেপ্তার নাটক সাজিয়ে মুসাকে কোথাও পার করে দিয়েছিলেন?

সোহাগী জাহান তনু

সোহাগী জাহান তনু

মুসার স্ত্রী আরও বলেছেন, বাবুল আক্তার মুসাকে এই হত্যার নির্দেশ দেন। মুসা নিজে হত্যার জড়িত ছিলেন না। অন্যকে দিয়ে করিয়েছেন। আইনের রক্ষক বাবুল আক্তার নিজের স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করিয়ে এভাবে আইন ‘রক্ষা’ করেছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে চ্যাম্পিয়ন টেকনাফের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপও সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে খুন করে আইন ‘রক্ষা’ করেছিলেন। তিনিও এখন খুনের মামলার আসামি হয়ে কারাগারে।

পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেছেন, তাঁদের তদন্তের শুরুটা হয়েছিল একটা প্রশ্নের জবাব খোঁজার মধ্য দিয়ে। সেটা হলো ঘটনাস্থলে মুসা থাকার পরও কেন তাঁকে শনাক্ত করতে পারলেন না বাবুল আক্তার? তিনি মুসাকে দায়ী না করে জঙ্গিদের ওপর দায় চাপান এবং জানান মিতু হত্যাকাণ্ডের দিন কয়েক আগে জঙ্গিরা তাঁর ওপর হামলা করেছিল। মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। এর ভিত্তিতেই পুরোনো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তাঁকে আসামি করে নতুন মামলার সিদ্ধান্ত হয়।

দেশবাসী আশা করে, সব হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। ত্বকী হত্যা মামলায় আসামিরা র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, কারা কোথায় কীভাবে তাকে হত্যা করেছে।

চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার স্ত্রীর হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন সুনিপুণভাবে। তিনি যখন ঢাকায়, তখনই খুনের সময় বেছে নেওয়া হয়; যাতে কেউ সন্দেহ না করেন। তারপর চট্টগ্রামে গিয়ে নিহত স্ত্রীর জন্য মায়াকান্না করেন। মামলা করেন।
বাবুল আক্তারের মতো ঠান্ডা মাথার খুনিরা দায়মুক্তি পেলে পুলিশ বিভাগ সম্পর্কে ভুলবার্তা যেত। মানুষ ধারণা করত, পুলিশ বিভাগের লোক বলেই সাতখুন মাফ।
পিবিআই শেষ পর্যন্ত মামলার জট খুলে খুনিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে, এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। এতে প্রমাণিত হলো পুলিশ চাইলে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা অসম্ভব নয়।

মিতু হত্যার আগে ও পরে আরও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দেশ। যেমন কুমিল্লায় কলেজশিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু, নারায়ণগঞ্জে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী, ঢাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। এসব হত্যা মামলার তদন্তও অজ্ঞাত কারণে ঝুলে আছে।
দেশবাসী আশা করে, সব হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। ত্বকী হত্যা মামলায় আসামিরা র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, কারা কোথায় কীভাবে তাকে হত্যা করেছে। র‌্যাবের নেওয়া সেই জবানবন্দি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কিন্তু তারপরও মামলার তদন্ত এগোচ্ছে না। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করার জন্য র‌্যাব বহুবার সময় নিয়েছে। তদন্তকাজ শেষ করতে আর কতবার সময় নিতে হবে? তনু হত্যা মামলায়ও একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তার বদল হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকাজ এগোচ্ছে না। তনুর বাবা-মাসহ পুরো পরিবারটি ভয়ভীতির মধ্যে আছে। এসব হত্যার তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের অধীনে আনা হোক। অবসান হোক হত্যার দায়মুক্তির সংস্কৃতির।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

মুজিব শতবর্ষ

সুরক্ষা অনলাই পোটার্ল

বাংলা পত্রিকাসমূহ

ইতিহাসের এই দিনে

বাংলাদেশের ৩৫০ ‍জন এমপিদের তালিকা

বিজ্ঞাপন

Web Deveoped By IT DOMAIN HOST